Business Talk

জেনে নিন কোয়েলের ডিম এর উপকারি দিক

কোয়েলের ডিম

দেশি ও ফার্মের মুরগির ডিমের পাশপাশি এখন কোয়েলের ডিম গ্রহণের প্রচলন বেশ দেখা যাচ্ছে। এলাকার ছোট-বড় বাজারসহ সুপার শপগুলোতেও কোয়েল পাখির ডিম বেশ সহজলভ্য। আকৃতিতে ছোট হওয়ায় ও সাধারণ মুরগির ডিমের চাইতে তুলনামূলক কম গন্ধ থাকায় এই ডিম খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, চিনি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিংক, ফলেট, ভিটামিন-এ, ই, ডি, বি১২ ও কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ কোয়েল পাখির ডিম ।

একটি কোয়েলের ডিমে পুষ্টিকর উপাদানের পরিমান কতটা তা দেয়া হল:

ক্যালরিঃ ১৪

ফ্যাটঃ ১ গ্রাম

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডঃ ৪ মিলিগ্রাম

ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডঃ ৮৪ মিলিগ্রাম

প্রোটিনঃ ১.২ গ্রাম

কোলেস্টেরলঃ ৭৬ মিলিগ্রাম

ভিটামিন ও মিনারেল

ভিটামিন এঃ ১%

রিবোফ্লাভিনঃ ৪%

ভিটামিন বি১২ঃ ২%

প্যানথোনিক এসিডঃ ২%

আয়রনঃ ২%

সেলেনিয়ামঃ ৪%

ফসসরাসঃ ২%

 

গর্ভাবস্থায় ও শিশুর জন্মগত সমস্যা প্রতিরোধে কোয়েলের ডিম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর হাড় গঠনেও দারুণভাবে কার্যকর। তাছাড়া বাচ্চাদের মানসিক, শারীরিক এবং বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে থাকে কোয়েলের ডিম। দুর্বল বাচ্চা থেকে বৃদ্ধরা প্রতিদিন তিন চারটা করে কোয়েলের ডিম খেতে পারেন।

 

কোয়েল পাখির ডিম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করার পাশাপাশি রক্ত থেকে ক্ষতিকর ও টক্সিন উপাদান বের করতেও উপকারী ভূমিকা পালন করে। এতে করে সাধারণ শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার হার কমে যায় অনেকখানি।

 

কোয়েলের ডিমের অ্যালার্জি প্রতিরোধকারী উপাদান হাঁপানির বিরুদ্ধেও কাজ করে। ধুলোবালির জীবাণুতে আক্রান্ত ১৮০ জন হাঁপানি আক্রান্ত শিশু নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা কোয়েল পাখির ডিম খেয়েছে তাদের হাঁপানির তীব্রতা ও অস্থিরতা উল্লেখযোগ্যহারে কম।

 

কোয়েল পাখির ডিমে উচ্চমাত্রার আয়রন থাকার ফলে এই খাদ্য উপাদানটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে কাজ করে। যাদের রক্তস্বল্পতার সমস্যা বা অ্যানিমিয়া আছে, নিয়মিত কোয়েল পাখির ডিম গ্রহণে তারা উপকার পাবেন।

 

ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ অনুযায়ী কোয়েলের ডিম বয়সের বৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে। কোয়েলের ডিমে কোলিন নামে এক ধরনের পুষ্টি থাকে যা মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ম রাখে, বিশেষত বয়স বাড়ার ব্যাপারে। এছাড়াও এতে ভিটামিন এ, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক থাকে যা ত্বকের জন্য ভালো। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বার্ধক্য প্রতিরোধ করে।

 

ছোট এই ডিমে থাকা ভিটামিন-এ ম্যাকুলার ডিজেনারেশন প্রতিরোধে কাজ করে। যা দৃষ্টিশক্তিকে ভালো রাখতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

 

কোয়েলের ডিমে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম। এই মিনারেলটি আর্টারি ও রক্তনালীকার চাপ কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেওয়া হতে প্রতিরোধ করে।

 

তবে এতসব ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি আছে  নেতিবাচক দিক, যা আগ্রাহ্য করার উপায় নেই। কোয়েলের ডিমে থাকে বেশ উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল। একটি ছোট কোয়েলের ডিমে থাকে ৭৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল, যা আমাদের দৈনিক চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ! সাধারণ সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে খুব একটা অসুবিধা সৃষ্টি না করলেও যাদের কোলেস্টেরল লেভেল ইতোমধ্যেই অনেক বেশি, তাদের কোয়েল পাখির ডিম খাওয়ার আগে দু’বার ভাবতে হবে। এতে সম্পৃক্ত ফ্যাট থাকায় অতিরিক্ত মাত্রায় না খাওয়ানোই উচিত কোন শিশুকে। প্রয়োজনে একদিন অন্তর শিশুকে খাওয়ানো যায়। তবে প্রথমে খাওয়ানোর পর যদি শিশুর কোনও প্রকার শারীরিক সমস্যা যেমন সর্দি, হাঁচি, আমাশয় বা গায়ে অ্যালার্জি জাতীয় কিছু দেখা দেয় সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

কোয়েলের ডিম বয়স ভেদে কতটি করে খেতে পারবেন তা জানা জরুরি। যারা ১ থেকে ৭ বছর বয়স তারা ২/৩ টা ডিম খেতে পারবেন,যারা ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী তারা নিয়মিত ৩টা ডিম খেতে পারবেন,যারা ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী তারা ৪/৫টা খেতে পারেন আর যারা প্রাপ্র বয়স্ক তাঁরা চাইলে ৪৯ দিনে ২৪৯ টি ডিম খেতে পারেন।

 

উপরোক্ত পদ্ধতিতে দেখা যায় কোয়েল পাখির ডিমের উপাকারিতা বেশি।  যেকোনো ডিমই নিঃসন্দেহে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখার মতো একটি খাবার। কোয়েলের ডিমও তাই। একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অবিচ্ছেদ্য উপাদান হতে পারে ডিম। তবে আমরা যদি এই ডিম খাওয়ার মাত্রা অতিরিক্ত বাড়িয়ে দি তখন আমাদের শরীরের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে যায়। কারণ এ ডিমে আছে বেশ ভালো পরিমাণে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল, যা অন্যান্য ফ্যাক্টরের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন হৃদরোগের সৃষ্টি করতে পারে। তাই আপনার যদি ডায়বেটিস থেকে থাকে কিংবা কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেয়ে থাকেন, ডিম খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন হওয়া তখন একান্ত কর্তব্য। কোনো জিনিষের ই অতিরিক্ত গ্রহণ করা ভালো না। আমরা নিয়ম মাফিক খাবার খাবো সুস্বাস্থ্য গড়ে তুলব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *